HomeGroupsTalkZeitgeist
This site uses cookies to deliver our services, improve performance, for analytics, and (if not signed in) for advertising. By using LibraryThing you acknowledge that you have read and understand our Terms of Service and Privacy Policy. Your use of the site and services is subject to these policies and terms.
Hide this

Results from Google Books

Click on a thumbnail to go to Google Books.

এখন তখন মানিক…
Loading...

এখন তখন মানিক রতন

MembersReviewsPopularityAverage ratingConversations
212,551,640 (2)None
Recently added byShaker07, PsYcHe_Sufi

None.

None
Loading...

Sign up for LibraryThing to find out whether you'll like this book.

No current Talk conversations about this book.



ওপরের ছবিটি আমি ‘ব্যাজ’ হিসেবে আমার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে নিয়মিত ধারণ করি! নিজেকে সংজ্ঞায়িত করে এমন কোন একটি ছবি ব্যাজ বানিয়ে ব্যাগে বা শার্টে গুঁজে ঘোরার সংস্কৃতিটা মূলত আমেরিকান তরুণ সমাজে প্রচলিত, বিশ্বায়নের যুগে যা আমাদের এখানেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কেউ ব্যাজে তার প্রিয় ফুটবল দলের প্রতীক ব্যবহার করেন। কারো ব্যাজে লেখা থাকে ‘FBI’ কিংবা ‘No Fear’। কেউ বা আবার ‘so many girls, not so much time’ জাতীয় প্রেজেন্ট ইন্ডেফিনিট টেন্সের চিরন্তন সত্যের যথার্থ উদাহরণস্বরূপ বাক্যগুলোকে ব্যাজে লেখেন। মোট কথা, ব্যাজের মাধ্যমে ধারণকারী ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে কিছু বাহ্যিক ধারণা চারপাশের মানুষদের আগেই দিয়ে দিতে পারেন। গুগল ইমেজ ঘেঁটে যে ব্যাজটি আমি বানিয়েছি, সেটি একটি মস্তিষ্কের ছবি, যার বাম-অর্ধটিতে আছে বৈদ্যুতিক সার্কিট আর ডান-অর্ধটি রঙিন আল্পনাময়। এই ছবিটি আসলে মনস্তত্ত্বের লেফট ব্রেইন-রাইট ব্রেইন থিওরীর প্রতিফলন। এই থিওরী মতে আমাদের মস্তিষ্ক যুক্তি নির্ভর কাজগুলো (যেমনঃ ভাষা, গণিত, সিদ্ধান্ত) সম্পাদন করে তার বাম-অর্ধ দিয়ে আর সৃষ্টিশীল কাজগুলো (যেমনঃ ছবি আঁকা, সংগীত রচনা, সাহিত্যসাধনা ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করে ডান-অর্ধ দিয়ে। অবশ্যই এই থিওরীর অর্থ এটাই নয় যে যুক্তি নির্ভর কাজগুলোতে মস্তিষ্কের ডান-অর্ধের কিংবা ছবি আঁকার কাজে বাম-অর্ধের কোন ভূমিকাই নেই। বাম-ডান দুই অর্ধ মিলিয়েই আসলে আমরা একটি কাজকে যথাযথ ভাবে সম্পন্ন করি। একটি ছাড়া আরেকটি অর্থহীন এবং নিতান্ত অসহায়। এমন একটি ছবি আমি ব্যাজ হিসেবে ঝুলিয়ে বেড়াই কেন? আমি প্রায়শয়ই ‘যুক্তি’ এবং ‘আবেগ’ এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে ভুগি। খুব সূক্ষাতিসূক্ষ্ম যুক্তি দিয়ে বিচার করে কোন একটি সিদ্ধান্ত নেবার পর দেখা যায় বিষয়টির মানবিক আবেগের দিকটি একেবারেই এড়িয়ে গেছি। আবার খুব আবেগ দিয়ে কোন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বার পর দেখা যায় কাজটি করবার কোন যৌক্তিকতাই আদৌ ছিলোনা! যে মানুষটি তাঁর জীবনের সকল কাজ শুধুমাত্র যুক্তির ওপর ভিত্তি করে করেছেন, কোন ভুল বা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত কখনোই নেননি, সেই মানুষটির জীবন কি খুব ‘মানবিক’? কিংবা যে জীবনে শুধুই লাগামহীন আবেগের ছড়াছড়ি, সেটিও কি আদৌ খুব কাম্য? আমরা আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করব, আবার যুক্তি দিয়ে তা ঠিক করব, মস্তিষ্কের দু'পক্ষেরই অবদান সমান সমান রইলো, এই জীবনই আমার কাছে বেশী অর্থবহ মনে হয়।

‘এখন তখন মানিক রতন’ বইটি গঠিত হয়েছে এক বন্ধু যুগল এর ৪টি গল্প নিয়ে। বন্ধুদের একজন কবি (মানিক) ও আরেকজন বৈজ্ঞানিক (রতন)। কবি’র ধারণা বৈজ্ঞানিকদের গায়ে তীব্র গন্ধ ও হাতের নখে ময়লা থাকে, বৈজ্ঞানিকের ধারণা কবিদের বড় বড় উসকোখুশকো চুল, লম্বা দাঁড়ি ও চুলে উকুন থাকে। আমাদের মাঝে একধরণের ধারণা আছে, যিনি ‘সাইন্সে’ পড়েন তিনি সাহিত্য পড়তে পারবেননা, কিংবা যিনি সাহিত্য নিয়ে পড়েছেন, তিনি বিজ্ঞান নিয়ে মাথা ঘামাবার যোগ্য নন। এই দৃষ্টিভঙ্গিটির অসম্ভব জনপ্রিয়তার কারণেই হয়ত মানিক ও রতনের একের প্রতি অপরের প্রাথমিক ভাবে বিদ্বেষমূলক ধারণা থাকে। এটি মূলত একটি শিশু-কিশোর সাহিত্যের বই, খুব বড় কোন দার্শনিক বিষয়ের এখানে আসার কথা নয়। তবে বইটির গল্পগুলো থেকে আমি আমার মত কিছু ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে নিয়েছি! পুরো বইটিতেই আমি ‘যুক্তি’ ও ’আবেগ’ এর সেই দ্বন্দ্ব খুঁজে পেয়েছি। কবি মানিক ভাষার বিকৃতিতে কষ্ট পায়। বাস কনডাক্টর ‘হগগলে লামেন’ বললে সবাই বাস থেকে নেমে যাবার কথা একবারেই বুঝে যায়, কেউ তর্ক করেনা। যুক্তি মতে, মনের ভাব প্রকাশ করে এমন যে কোন সবাক-নির্বাক ভাষা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ভাষাটি সুন্দর কি কুৎসিত তা একান্তই মনের আবেগের ব্যাপার আর এ কারণেই বাস কন্ডাক্টরের ‘হগগলে লামেন’ আর রতনের বিভিন্ন বাংলা শব্দের ভুল প্রয়োগ কবি মানিকের আবেগী মনকে আহত করে। আবার যন্ত্রের প্রতি মানিকের ঘৃণাবোধ বৈজ্ঞানিক রতনের কাছে স্বাভাবিকভাবেই অযৌক্তিক মনে হয়। দু’জনের এই পারস্পরিক ঠোকাঠুকির ছোট ছোট চিত্রই ঘুরেফিরে এসেছে গল্প ৪টি তে। পুরনো সময়ের সফদর আলী’র গল্পগুলোর কিছুটা ছাপ অবশ্যই আছে, আছে চরিত্রগুলোর সংকটের বেলায় সংকট উত্তরণের ‘টিপিক্যাল জাফর ইকবালীয় ছেলেমানুষি উপায়’ও। সব মিলিয়ে ‘মোটের ওপর চলে আর কি’ কিসিমের বই। সেই যুক্তি ও আবেগের সংঘর্ষই আমার কাছে বইটির 'আন্ডারলাইং ইস্যু' হয়ে রইলো।

বেশ কয়েক বছর ধরেই বইমেলায় হুমায়ূন আহমেদ ও মুহম্মদ জাফর ইকবাল ভ্রাতৃযুগলের বই একটি নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা পথে হেঁটে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রতি বছর নতুন প্রকাশিত বইগুলো কলেবরে শীর্ণ থেকে শীর্ণ হয়েছে, মলাট আরো ঝাঁ চকচকে হয়েছে, ভেতরের গল্প রদ্দি হয়েছে আর সবশেষে অবশ্যই মূল্যটা বইয়ের মানের ঠিক ব্যস্তানুপাতিক হারে বেড়েছে। বইয়ের উপকরণ কম বলেই হয়ত ‘এখন তখন মানিক রতন’ এর পৃষ্ঠাগুলোর চারপাশের মার্জিন অসম্ভব চওড়া; টেনেটুনে ১১৯ পৃষ্ঠার বই বানিয়ে নেয়া। ‘শুদ্ধস্বর’ প্রকাশনীর প্রকাশিত আরো অন্য দু’চারটি বই আমার সংগ্রহে আছে। সেগুলোর পাতা উল্টে এই বইটির মতো চওড়া মার্জিন পেলাম না।

পরিশেষে, বইটি সংগ্রহের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করা যাক! বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেবার বেলায় আমার মন যুক্তি ও আবেগে দ্বিধাবিভক্ত থাকে, আগেই উল্লেখ করেছি। ১১৯ পৃষ্ঠার বই ‘এখন তখন মানিক রতন’ কি ২২০ টাকা দিয়ে খরিদ করা উচিৎ? এই সিদ্ধান্তের বেলায় যুক্তির সাথে সাথে অন্ধ বোকা আবেগও তাল মেলাচ্ছে।
( )
  Shaker07 | May 18, 2017 |
no reviews | add a review
You must log in to edit Common Knowledge data.
For more help see the Common Knowledge help page.
Series (with order)
Canonical title
Original title
Alternative titles
Original publication date
People/Characters
Important places
Important events
Related movies
Awards and honors
Epigraph
Dedication
First words
Quotations
Last words
Disambiguation notice
Publisher's editors
Blurbers
Publisher series
Original language

References to this work on external resources.

Wikipedia in English

None

Book description
Haiku summary

No descriptions found.

No library descriptions found.

Quick Links

Popular covers

None

Rating

Average: (2)
0.5
1
1.5
2 1
2.5
3
3.5
4
4.5
5

Is this you?

Become a LibraryThing Author.

 

About | Contact | Privacy/Terms | Help/FAQs | Blog | Store | APIs | TinyCat | Legacy Libraries | Early Reviewers | Common Knowledge | 126,302,687 books! | Top bar: Always visible