
Kalkut
Author of Samudra Jatra
Works by Kalkut
Tagged
Common Knowledge
There is no Common Knowledge data for this author yet. You can help.
Members
Reviews
ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষদের জীবন যাপনের ধরন, গতি প্রকৃতি, সংস্কৃতি ইত্যাদি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবার জন্য সমরেশ বসু সময়ে সময়ে 'কালকূট' হয়েছেন, মিশেছেন নানা show more ধরনের মানুষের সাথে আর সেই বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও ভ্রমণবৃত্তান্ত নিয়ে এই নামেই লিখেছেন আত্নচরিতমূলক বেশ কিছু গ্রন্থ। 'অমৃত বিষের পাত্রে' ও তেমনি আরেকটি সফরনামা। অকুস্থল এবার ভারতরাজধানী দিল্লী। বইটির শুরু হয়েছে লেখকের কলকাতার প্রচণ্ড খ্যাতির ক্লান্তিকর জীবন থেকে ক্ষণিক নির্বাসন নিয়ে হিন্দিভাষী দিল্লীতে কালকূট ছদ্মনামী হয়ে থাকার প্রয়াস দিয়ে; যেখানে ভক্তরা কেউ লেখককে চিনে ফেলে জ্বালাতন করবে এই ভয় থাকবেনা। এর আগে কালকূটের 'কোথায় পাবো তারে' পড়া ছিলো। মূলত 'কোথায় পাবো তারে'র মুগ্ধতাই এই বইটি হাতে নেবার জন্য দায়ী কিন্তু 'কোথায় পাবো তারে'র সেই ভালো লাগাটা এখানে একেবারেই আসেনি। কেন আসেনি সেটি ব্যাখা করতে গেলে আগে 'কোথায় পাবো তারে' কে নিয়ে বেশ কিছু কথা বলতে হয়।
'কোথায় পাবো তারে'ও ঠিক এভাবেই কালকূটের অনির্দিষ্ট গন্তব্যের অভিমুখে যাত্রা দিয়ে শুরু হয়। তারপরে তাঁর সাথে দেখা হয়ে যায় ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্রী ঝিনির। ঝিনি কালকূটের ভক্ত বললে কম বলা হবে, লেখক হিসেবে তাঁকে রীতিমত দেবতা জ্ঞান করে। শুধু ঝিনিই নয়, তার গোটা পরিবারই দেখা যায় কালকূটের নিষ্ঠাবান পূজারী। ঝিনির মা মোটামুটি স্থূল ভাবে আশা করেই নেন কালকূটের সাথে ঝিনির প্রেম/ পরিণয় হয়েই যাচ্ছে। তবে কালকূটকে ধরা যায়না। কালকূট মানে প্রবল বিষ। সেই বিষে ঝিনিকে একরকম দংশিয়ে কালকূট তার আপন পথে ফিরে যায় নায়কের বেশে। উপন্যাসে মুগ্ধতার অন্যান্য এতগুলো উপকরণ ছিলো যে ঝিনির আবেগের বাহুল্যময় (আমার মতে) এই অংশগুলো খুব একটা গায়ে মাখিনি। এবার 'অমৃত বিষের পাত্রে' পড়তে গিয়ে সেই গা করাটা কিছুটা করতেই হল, কালকূটের ওপর তাঁর নারী ভক্তদের অসহনীয় 'অত্যাচার' এর লম্বা বিবরণী জেনে!
'অমৃত বিষের পাত্রে'র কাহিনী গড়ে উঠেছে লেখকের দিল্লীতে ইচ্ছেকৃত নির্বাসন কালীন সময়ে নারী ভক্তদের ভালোবাসায় সেই নির্বাসন পণ্ড হয়ে যাওয়া নিয়ে! এখানে ভক্ত দুজন। একজন সাহিত্যের ছাত্রী, আরেকজন উঁচু পর্যায়ের কল গার্ল। ভক্ত বলেছি বটে, কার্যত এঁরাও লেখকের পূজারীই। ইংরেজী সাহিত্যে পড়ুয়া কবি হেনার 'দেবতা' কালকূট। আবার প্রকাশ্য দিবালোকে অন্তর্বাস পুড়িয়ে বিদ্রোহ করা প্রচণ্ড দারুপ্রেমী 'স্বৈরিণী' রঞ্জিতা রিজভীর পাপবোধ মুছে দেবার পরশপাথরও সেই কালকূটই। রঞ্জিতা হিন্দু ঘরের মেয়ে হয়ে মুসলমান অধ্যাপককে বিয়ে করে রঞ্জিতা রিজভী হয়, রঞ্জিতা রিজভী রাম খায়, রঞ্জিতা রিজভী দশজনের বিচারে বেশরম, বাজে মেয়েলোক। রঞ্জিতা রিজভীর কাপড় বেসামাল, শরীর যেন আগুনের কুন্ড (তা হোক। কালকূটের ওসবে রুচি নেই, চোখ যায়না),রঞ্জিতা রিজভীর পরিবার পতিতাবৃত্তির সাথে জড়িত। রঞ্জিতা রিজভী কবিতা লেখে, সাহিত্য সমালোচনা করে। রঞ্জিতা রিজভীর কালকূটের চোখে চোখ পড়লে সব পাপবোধ ধুয়ে মুছে যায়। রঞ্জিতা রিজভী শুধুই কালকূটকে জ্বালাতন করে মারে। রঞ্জিতা রিজভী কৌশলে কালকূটের হোটেল রুম নাম্বার, ফোন নাম্বার জেনে নিয়ে যায়। গভীর রাতের দিল্লীতে মাতাল রঞ্জিতাকে নিয়ে টাঙ্গায় চড়ে কালকূট দিল্লীর রাতের রুপ অবলোকন করে। কালকূট জানে, রঞ্জিতা আসলে অমৃত। কিন্তু তাকে ঘিরে রেখেছে বিষ। কালকূটও কঠিন বিষ। অতএব, বিষে বিষক্ষয় ঘটিয়ে সবটুকু বিষ নিজে ধারন করে রঞ্জিতা রিজভীকে শুধুই 'অমৃত' করে দিয়ে কালকূট আবার শুরু করে অজানার উদ্দেশ্যে যাত্রা। ভালো লাগলো কী খুব?
কালকূট সম্পর্কে পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা না থাকলে 'অমৃত বিষের পাত্রে' কেমন লাগতো বলা মুশকিল। আগের বইয়ের স্মৃতি এই বইটির গুণ বিচারে দ্বিধাগ্রস্ত করে বইকি! ভালো লেগেছে বইয়ের ছোট ছোট হিউমারগুলো। সেদিক দিয়ে ভালোই চলছিলো, রঞ্জিতা রিজভী এসে আমার সব গোলমাল করে দিল!
পুনশ্চঃ মেয়ে ভক্তের মাথা কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে যাবার বেলায় তাকে ফিলোসফির পাঠ দেয়ার ক্ষেত্রে হিমু চরিত্রটিই সর্বোৎকৃষ্ট! show less
'কোথায় পাবো তারে'ও ঠিক এভাবেই কালকূটের অনির্দিষ্ট গন্তব্যের অভিমুখে যাত্রা দিয়ে শুরু হয়। তারপরে তাঁর সাথে দেখা হয়ে যায় ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্রী ঝিনির। ঝিনি কালকূটের ভক্ত বললে কম বলা হবে, লেখক হিসেবে তাঁকে রীতিমত দেবতা জ্ঞান করে। শুধু ঝিনিই নয়, তার গোটা পরিবারই দেখা যায় কালকূটের নিষ্ঠাবান পূজারী। ঝিনির মা মোটামুটি স্থূল ভাবে আশা করেই নেন কালকূটের সাথে ঝিনির প্রেম/ পরিণয় হয়েই যাচ্ছে। তবে কালকূটকে ধরা যায়না। কালকূট মানে প্রবল বিষ। সেই বিষে ঝিনিকে একরকম দংশিয়ে কালকূট তার আপন পথে ফিরে যায় নায়কের বেশে। উপন্যাসে মুগ্ধতার অন্যান্য এতগুলো উপকরণ ছিলো যে ঝিনির আবেগের বাহুল্যময় (আমার মতে) এই অংশগুলো খুব একটা গায়ে মাখিনি। এবার 'অমৃত বিষের পাত্রে' পড়তে গিয়ে সেই গা করাটা কিছুটা করতেই হল, কালকূটের ওপর তাঁর নারী ভক্তদের অসহনীয় 'অত্যাচার' এর লম্বা বিবরণী জেনে!
'অমৃত বিষের পাত্রে'র কাহিনী গড়ে উঠেছে লেখকের দিল্লীতে ইচ্ছেকৃত নির্বাসন কালীন সময়ে নারী ভক্তদের ভালোবাসায় সেই নির্বাসন পণ্ড হয়ে যাওয়া নিয়ে! এখানে ভক্ত দুজন। একজন সাহিত্যের ছাত্রী, আরেকজন উঁচু পর্যায়ের কল গার্ল। ভক্ত বলেছি বটে, কার্যত এঁরাও লেখকের পূজারীই। ইংরেজী সাহিত্যে পড়ুয়া কবি হেনার 'দেবতা' কালকূট। আবার প্রকাশ্য দিবালোকে অন্তর্বাস পুড়িয়ে বিদ্রোহ করা প্রচণ্ড দারুপ্রেমী 'স্বৈরিণী' রঞ্জিতা রিজভীর পাপবোধ মুছে দেবার পরশপাথরও সেই কালকূটই। রঞ্জিতা হিন্দু ঘরের মেয়ে হয়ে মুসলমান অধ্যাপককে বিয়ে করে রঞ্জিতা রিজভী হয়, রঞ্জিতা রিজভী রাম খায়, রঞ্জিতা রিজভী দশজনের বিচারে বেশরম, বাজে মেয়েলোক। রঞ্জিতা রিজভীর কাপড় বেসামাল, শরীর যেন আগুনের কুন্ড (তা হোক। কালকূটের ওসবে রুচি নেই, চোখ যায়না),রঞ্জিতা রিজভীর পরিবার পতিতাবৃত্তির সাথে জড়িত। রঞ্জিতা রিজভী কবিতা লেখে, সাহিত্য সমালোচনা করে। রঞ্জিতা রিজভীর কালকূটের চোখে চোখ পড়লে সব পাপবোধ ধুয়ে মুছে যায়। রঞ্জিতা রিজভী শুধুই কালকূটকে জ্বালাতন করে মারে। রঞ্জিতা রিজভী কৌশলে কালকূটের হোটেল রুম নাম্বার, ফোন নাম্বার জেনে নিয়ে যায়। গভীর রাতের দিল্লীতে মাতাল রঞ্জিতাকে নিয়ে টাঙ্গায় চড়ে কালকূট দিল্লীর রাতের রুপ অবলোকন করে। কালকূট জানে, রঞ্জিতা আসলে অমৃত। কিন্তু তাকে ঘিরে রেখেছে বিষ। কালকূটও কঠিন বিষ। অতএব, বিষে বিষক্ষয় ঘটিয়ে সবটুকু বিষ নিজে ধারন করে রঞ্জিতা রিজভীকে শুধুই 'অমৃত' করে দিয়ে কালকূট আবার শুরু করে অজানার উদ্দেশ্যে যাত্রা। ভালো লাগলো কী খুব?
কালকূট সম্পর্কে পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা না থাকলে 'অমৃত বিষের পাত্রে' কেমন লাগতো বলা মুশকিল। আগের বইয়ের স্মৃতি এই বইটির গুণ বিচারে দ্বিধাগ্রস্ত করে বইকি! ভালো লেগেছে বইয়ের ছোট ছোট হিউমারগুলো। সেদিক দিয়ে ভালোই চলছিলো, রঞ্জিতা রিজভী এসে আমার সব গোলমাল করে দিল!
পুনশ্চঃ মেয়ে ভক্তের মাথা কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে যাবার বেলায় তাকে ফিলোসফির পাঠ দেয়ার ক্ষেত্রে হিমু চরিত্রটিই সর্বোৎকৃষ্ট! show less
Statistics
- Works
- 2
- Members
- 3
- Popularity
- #1,791,149
- Rating
- 2.0
- Reviews
- 1
- ISBNs
- 2
